
(২ বছর আগে) ৩১ আগস্ট ২০২৪, শনিবার, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বর্তমান আন্তর্বর্তীকালীন সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে লেবাসধারী চাঁদাবাজরা। রাতারাতি সাইফুল আলম নামে এক পরিবহণ নেতা ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির ব্যানারে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে পরিবহণ মালিকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।
কথিত ওই আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন পরিবহণের মালিকদের কাছে তাদের স্বঘোষিত ওই কমিটির তালিকা পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৫ আগস্ট স্বদেশ, উৎসব, বন্ধন, দোয়েল ও আনন্দসহ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী বাস কোম্পানির মালিকদের ডেকে চাঁদার জন্য চাপ দিয়েছে।
রমনা থানার ১১৭ কাজী নজরুল ইসলাম রোডে অবস্থিত ইউনিক হাইটসের ৪র্থ তলায় তাদের অফিসে গাড়ির মালিকদের ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছে, চাঁদা না দিলে গাড়ির পারমিট বাতিল করে দেবে। পরিবহণ মালিকদের দাবি, গাড়ির পারমিট বাতিল করার তারা কারা? এটা দেখভাল করার জন্য সরকারের মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এভাবে কমিটি করে রাজধানীর গাড়িগুলো থেকে আওয়ামী লীগের আমলে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ব্যাপক চাঁদাবাজি করে পরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন বিএনপি ক্ষমতায় না আসতেই দলের নাম ভাঙিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। পরিবহণ মালিকদের দাবি, গাড়ির যন্ত্রাংশের মূল্য ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক বেড়েছে, হানিফ ফ্লাইওভারে অতিরিক্ত টোল আদায় এবং তদুপরি নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করায় তাদের এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তারা অন্তর্বর্তীকালীন এ সরকারের কাছে এসব পরিবহণ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এসব চাঁদাবাজরা পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের প্রয়োজনে কখনো পাশে দাঁড়ায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা। উদাহরণ হিসাবে তারা উল্লেখ করেন, করোনাকালে এনায়েতউল্লাহ বেকার হয়ে পড়া পরিবহণ শ্রমিকদের একটি টাকা দিয়েও সহায়তা করেননি।
বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে প্রথমেই আঘাত আসে পরিবহণ খাতে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় তাদের গাড়ি। কিন্তু মালিক সমিতি তাদের পাশে কখনো সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। বিএনপির শাসনামলে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা মাত্র ১০ টাকা চাঁদা নেওয়া বৈধ করেছিলেন। সেই থেকে চলছে এ চাঁদাবাজি, তবে এখন আর ১০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, দূরপাল্লার বাসগুলোকে চাঁদা দিতে হয় হাজার টাকারও বেশি।
আন্তর্বর্তীকালীন এ সরকারের কাছে পরিবহণ মালিকদের জোর দাবি, চাঁদাবাজি যাতে চিরতরে বন্ধ হয়। তাহলে তারা যাত্রীসেবার মান দিন দিন আরও উন্নত করতে পারবে।
বিএনপিপন্থি পরিবহণ নেতাদের স্বঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক যথাক্রমে এমএ বাতেন, রফিকুল হোসেন কাজল, আক্তারুজ্জামান বাবুল, এএসএম আহমেদ খোকন, আলমগীর কবির, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও রিপন মোল্লা।
এছাড়া আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন-মো. সাইদুর রহমান (বাবু), জাহিদ-আল-লতিফ (খোকা), কাজী জোবায়ের মাসুদ, এইচআর সিদ্দিকী (সাজু), মনির হোসেন, ইমরান হোসেন, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মন্টু মিয়া. তানভীর রানা, জিল্লুর রহমান, ররুল আমিন, জোবায়ের হোসেন সিরাজী, ইকবাল হাসেম খান, ইকবাল আহমেদ, মোক্তার হোসেন নিপা, সিরাজুল ইসলাম, এমএ মালেক, কামাল হোসেন, জাহাঙ্গীর সিকদার, মোশাররফ হোসেন, মো. সানা উল্লা, একেএম নূরুল মোমেন, মো. গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ রেজাউল করিম, আওলাদ হোসেন আতিক ও কামরুল ইসলাম রিপন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে স্বঘোষিত সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে একাধিকবার ফোন এবং তাদের অফিসে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সম্প্র্রতি এক ভিডিও বার্তায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। যে কোনো মূল্যে চাঁদাবাজদের দমন করবে বর্তমান সরকার।