
(১ বছর আগে) ২২ নভেম্বর ২০২৪, শুক্রবার, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
ঢাকা, ২২ নভেম্বর ২০২৪: আগামী বছরের নতুন পাঠ্যবইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহিদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদ আবু সাঈদ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধের মহান আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথার গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন কেন্দ্রিক দেয়ালজুড়ে আঁকা গ্রাফিতির পাশাপাশি দেশের ইতিহাসের নায়কদের বীরত্বগাথাও তুলে ধরা হচ্ছে।
এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ছবি এবং উদ্ধৃতি বাদ দেওয়া হচ্ছে। পুরোদমে নতুন বইয়ের ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই দেওয়া হবে, তবে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবই কিছুটা পরিমার্জিতভাবে বদলানো হচ্ছে, যা ২০১২ সালের বাতিল হওয়া পাঠ্যক্রমের আলোকে তৈরি হবে।
নতুন শিক্ষাক্রমে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রিয়াজুল হাসান বলেন, "১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০২৪—এই তিনটি সময়কাল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করতে পারবে।"
পাঠ্যবইয়ে আরও স্থান পাচ্ছে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্ব, ৭ মার্চের ভাষণ, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা, মওলানা ভাষানীর সংগ্রামী জীবনের পাশাপাশি জাতীয় চার নেতার ভূমিকা উল্লেখ থাকবে।
এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান আরও বলেন, "জিয়াউর রহমান তখন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাম বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।"
গত ১৭ বছর ধরে পাঠ্যবইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও উদ্ধৃতির স্থান ছিল, যা এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। রিয়াজুল হাসান মন্তব্য করেছেন, "পাঠ্যবই কোন দলীয় প্রচারের জায়গা হতে পারে না, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিষয়ভিত্তিক বই হওয়া উচিত।"
নতুন পাঠ্যবইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে আঁকা গ্রাফিতিগুলোর মধ্যে কিছু বিশেষ উল্লেখযোগ্য গ্রাফিতিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জানুয়ারি থেকে যারা দশম শ্রেণিতে পড়বে, তাদের বই ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রকাশিত হবে।