
(১ বছর আগে) ২২ নভেম্বর ২০২৪, শুক্রবার, ৬:৩৯ অপরাহ্ন
দ্য হেগ, ২২ নভেম্বর ২০২৪: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। দ্য হেগ আদালতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন এবং রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
আইসিসি নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইল গাজার জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে তাদের মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আইসিসি দাবি করেছে, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
রোম চুক্তি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্য ১২৪টি দেশ এখন বাধ্য নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্টকে গ্রেফতার করতে এবং আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
আইসিসির এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি আইসিসির রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলেও সবসময় আদালতটির বিরোধিতা করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে "অবমাননাকর" হিসেবে উল্লেখ করে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে এবং আমরা সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকব।"
এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসে আইসিসির বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও ইসরাইলের একঘরে হওয়ার শঙ্কা
আইসিসির এই সিদ্ধান্তে ইউরোপের দেশগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করলেও, আইসিসির রায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরোয়ানার ফলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের হতে পারে এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃত হবে। ব্রিটেনে দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে তার প্রশাসন কীভাবে এই পরোয়ানার প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাবে তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি তার "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতি অনুসরণ করেন, তবে ইসরাইলের বিতর্কিত পদক্ষেপ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা তার জন্য কৌশলগত হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
আইসিসির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্ববাসীর সামনে এখন প্রশ্ন রয়ে গেছে— "আপনি কি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবেন, নাকি পেশীশক্তির প্রতি সমর্থন জানাবেন?"
সূত্র: মিডল ইস্ট আই