banglahour

আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিতর্ক: ভারতের মাটিতে তৈরি বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের ব্যয়বহুল চুক্তি

জাতীয় | অনলাইন ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার, ২:৫৮ অপরাহ্ন

৯ বছর ৬ মাস আগে, ২০১৫ সালের ৭ জুন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতির শিরোনাম ছিল “নতুন প্রজন্ম – নঈ দিশা”। এই সফরে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়, যা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বদলে দিয়েছে।

আদানির গোড্ডা প্রকল্পের প্রস্তাব ও সূচনা

সফরে বিদ্যুৎ খাতে ভারতের বেসরকারি কর্পোরেটদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে গৌতম আদানির আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে সেই বিদ্যুৎ পুরোটাই বাংলাদেশে রপ্তানির প্রস্তাব দেয়।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী, গোড্ডার ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বাংলাদেশে সরবরাহের শর্ত আরোপ করা হয়।

বিতর্কিত চুক্তি ও তার শর্তাবলী

আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় ব্যতিক্রমী কিছু শর্ত:

  1. বাংলাদেশকে ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য করা হয়।
  2. দাম পরিশোধে মার্কিন ডলারের শর্ত থাকে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য কঠিন।
  3. বিদ্যুতের দাম স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

আদানির জন্য ঝাড়খন্ডে পরিবেশ আইন শিথিল করা, কয়লা আমদানিতে শুল্ক মওকুফ, এবং স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড)-এর সুবিধা দেওয়া হয়।

পিপিএ নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা

এই প্রকল্প নিয়ে তুমুল বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কিনতে যে ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে, তা দিয়ে একাধিক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক মনিটরিং গ্রুপ আদানি ওয়াচ এবং ওয়াশিংটন পোস্ট এই চুক্তিকে ব্যতিক্রমী ও বাংলাদেশের জন্য আর্থিক বোঝা বলে উল্লেখ করেছে।

আদানির পক্ষে যুক্তি

আদানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাংলাদেশকে পোহাতে হয়নি। এই ‘ফিনিশড প্রোডাক্ট’-এর জন্য বেশি খরচ স্বাভাবিক।

শেখ হাসিনা ও আদানির সম্পর্ক

শেখ হাসিনার সঙ্গে আদানির ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। ২০২২ সালে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আদানি এই প্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

গোড্ডা প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও এর আর্থিক ও পরিবেশগত দিক নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল