
(১ বছর আগে) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকায় শুক্রবার "রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা" শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, "পরিস্থিতি অনুযায়ী সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি জানান, আরাকান আর্মির সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে হলে তা গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে করা হবে।
থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মি সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর মংডু দখল করেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের একটি পুরো রাজ্য বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আরাকান আর্মি নাফ নদীর মিয়ানমারের অংশে নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং আরাকান আর্মির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যের স্বার্থে বাংলাদেশের আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও এখন আরাকান আর্মির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"
তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, "রাখাইনের রাজধানী এখনও মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং নেপিদো সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।"
ড. খলিলুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "আমাদের জন্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। রাখাইনে পরিস্থিতি বুঝে তবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।" তিনি আরও যোগ করেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু ঠিক হয়নি।
সরকারি সূত্রমতে, সীমান্তে চোরাচালান রোধ এবং নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও আরাকান আর্মির সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ চ্যানেল আগেই তৈরি হয়েছিল, তা এখনও কার্যকর আছে কি না তা নিশ্চিত নয়।
২০০৯ সালে গঠিত আরাকান আর্মি কাচিন ইন্ডিপেনডেন্ট আর্মির (কেআইএ) সহায়তায় মিয়ানমারের ইউনাইটেড লীগ অব আরাকানের সামরিক শাখা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তাদের মূল লক্ষ্য একটি স্বাধীন আরাকান রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
২০১৫ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় থাকা এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সংঘাতে সরকারি বাহিনীর বিপুল ক্ষতি সাধন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি বাহিনী ফেলে যাওয়া অস্ত্রের চোরাচালান বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশ কি আরাকান আর্মির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে, নাকি কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।