
(১ বছর আগে) ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার, ৩:৪৩ অপরাহ্ন
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত সাতটি চক্র শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২৪ বছর ধরে সক্রিয় এসব চক্র বিসিএস ও নন-ক্যাডারের ৯টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেই থেমে থাকেনি চক্রের তৎপরতা। রীতিমতো ঘর ভাড়া করে সেখানে পরীক্ষার্থীদের উত্তরও শেখাতেন চক্রের সদস্যরা।
ইতিমধ্যে চক্রের ২২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তাঁদের মধ্যে সাতজন অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে চক্রের ৩৫ সদস্যের নাম এসেছে। এ তালিকায় আছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক সদস্য, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাও।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী (আবেদ আলী চক্রের প্রধান), অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম (সাজেদুল চক্রের প্রধান) ও ডেসপাস রাইডার মো. খলিলুর রহমান (খলিলুর রহমান চক্রের প্রধান), জাহিদুল ইসলাম (জাহিদুল চক্রের প্রধান) ও পানির ফিল্টার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন (সাখাওয়াত চক্রের প্রধান)। এ ছাড়া জাহিদুল চক্রের সদস্য লিটন সরকার ও সাখাওয়াত চক্রের সাইম হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে এই ব্যক্তিরা ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন বলে জানিয়েছেন। এর নেপথ্যে ছিলেন পিএসসির একজন সাবেক সদস্য ও একজন উপপরিচালক।
পরীক্ষাগুলো হলো বিসিএস, নন-ক্যাডারের বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী, থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, অডিটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ইনস্ট্রাক্টর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স।
প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ জুলাই পিএসসির গাড়িচালক আবেদ আলী, দুজন উপপরিচালক, একজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া আবেদ আলী তখন ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। সংস্থাটির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, পিএসসির কোনো নিয়োগ পরীক্ষা এলেই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন। ৫ জুলাই রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস করেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তাঁরা পরীক্ষার আগের দিন রাতে চুক্তি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাত স্থানে রেখে প্রশ্নপত্র ও এর উত্তর জানিয়ে দেন।