
(১ বছর আগে) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, মঙ্গলবার, ৯:৪৩ অপরাহ্ন
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার খ্রিষ্টানপ্রধান শহর সুকাইলাবিয়ায় ক্রিসমাস ট্রি পোড়ানোর ঘটনার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। দেশটির রাজধানী দামাস্কাসসহ বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দাবি করে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সুকাইলাবিয়ার প্রধান চত্বরে স্থাপিত একটি ক্রিসমাস ট্রিতে মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থি শাসকদল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) কয়েকজন বিদেশি যোদ্ধাকে আটক করেছে। তারা জানিয়েছে, পোড়া ট্রিটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সংবাদে এই ঘটনা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দামাস্কাসের বাব তুমা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ক্রস এবং সিরিয়ার পতাকা নিয়ে স্লোগান দেন, “আমরা আমাদের ক্রসের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করব।”
এক বিক্ষোভকারী জর্জেস এএফপি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “যদি আমরা নিজেদের দেশে খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করতে না পারি, তবে এখানে থাকার কোনো মানে নেই।”
সিরিয়া বহু জাতিগোষ্ঠী এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি দেশ। এখানে কুর্দি, আর্মেনিয়ান, আসিরিয়ান, খ্রিষ্টান, দ্রুজ, আলাউই শিয়া এবং আরব সুন্নি মুসলিমদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে বাশার আল-আসাদের দীর্ঘদিনের শাসন পতিত হয়। সিরিয়ার নতুন শাসকদল এইচটিএস একটি ইসলামপন্থি নীতিতে পরিচালিত হলেও সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আগ্রাসন রোধ করা। শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।