
(১ বছর আগে) ৬ জানুয়ারি ২০২৫, সোমবার, ১০:০৯ অপরাহ্ন
ইসলামাবাদ: ইন্টারনেট শাটডাউন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ক্রমাগত ইন্টারনেট বিভ্রাটের ফলে ২০২৪ অর্থবছরে দেশটি ১৬২ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এটি মিয়ানমার ও সুদানের সারাবছরের ব্যয়ের সমান। পাকিস্তানের শীর্ষ গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, টপ টেন ভিপিএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তানে ৯৭৩৫ ঘণ্টা ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়। নির্বাচনের সময়, প্রতিবাদ দমন এবং তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এই শাটডাউন চালানো হয়। এর ফলে প্রায় ৯ কোটি ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধাগ্রস্ত হন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) বন্ধ থাকার কারণে গত বছর পাকিস্তান ১৬৪ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া বেলুচিস্তানে ১৬ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৮৬৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ফলে ১১৮ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নেটব্লকস-এর তৈরি কস্ট অব শাটডাউন টুল (সিওএসটি) ব্যবহার করে এই ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ৮৮,৭৮৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট বিঘ্নিত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭.৬৯ বিলিয়ন ডলার।
ইন্টারনেট গতি কম থাকা এবং বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ) এ বিষয়ে নীরব থেকেছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে সরকার এক্স প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি বিবেচনায় করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেফতারের ঘটনায় একাধিকবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ এবং শাটডাউনের কারণে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।