ঢাকা, ৯ মে ২০২৫ — ‘শহিদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে প্রতারণা করলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “শহিদের রক্তে রঞ্জিত ‘জুলাই স্পিরিট’-এর সঙ্গে যারাই প্রতারণা করবেন, তারাই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।”
এর আগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীর যমুনা এলাকায় চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয় ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ ফেসবুকে লিখেন, “যমুনায় আসতেছি। দেশের মানুষের জন্য আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ।”
ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেওয়া আরেক পোস্টে বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে ‘জুলাই’ হেরে যেতে দেব না। আমাদের লক্ষ্য—চূড়ান্ত বিপ্লব, ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক নিষিদ্ধকরণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এক ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেন, “গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যেসব উপদেষ্টা চিহ্নিত আওয়ামী আমলাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে পদায়ন করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
অন্যদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এক পোস্টে তিনি লিখেন, “যার এজেন্ডায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট বয়ান নাই, তার সঙ্গে আমরা নাই।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের টানা শাসনের পর আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে আবদুল হামিদ ছিলেন একমাত্র দৃশ্যমান মুখ। অবশেষে বুধবার রাতে ছেলে ও শ্যালককে নিয়ে তিনিও দেশ ত্যাগ করেন।
আবদুল হামিদ ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
