আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (International Maritime Organization - IMO) কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে পুনঃনির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৭ জুলাই) লন্ডনে IMO’র সদর দপ্তরে এই প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ।বাংলাদেশ ‘সি’ ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে বিশ্বের ২৭টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি দেশকে নির্বাচিত করা হবে। IMO কাউন্সিল নির্বাচন দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। এই শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশর, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, তুর্কিয়ে, চিলি, ফিনল্যান্ডসহ আরও অনেকে।প্রার্থিতা ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও IMO-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবিদা ইসলাম, IMO মহাসচিব আর্সেনিও ডমিনগুয়েজ এবং সংস্থাটিতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশ একটি সমুদ্রঘেঁষা দেশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামোর মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের নাবিক, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ ভাঙা খাত বিশ্বজুড়ে পরিচিত ও সম্মানিত।তিনি আরও বলেন, IMO কাউন্সিলে পুনরায় নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থাপিত প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামুদ্রিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করা পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে সমর্থন সামুদ্রিক খাতে নারীর ক্ষমতায়ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা উল্লেখ্য, IMO হচ্ছে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যার দায়িত্ব হলো জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই সংস্থার ১৭৬টি সদস্য রাষ্ট্র এবং তিনটি সহযোগী সদস্য রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে IMO-র সদস্যপদ লাভ করে এবং এর পর থেকে নিয়মিতভাবে সংস্থাটির কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
