রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী তুরাগ নদী এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। প্রভাবশালী দখলদার চক্র, অবৈধ স্থাপনা, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন, দূষণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলে একসময়ের প্রমত্তা নদীটি আজ প্রায় মৃতপ্রায়। বিশ্ব ইজতেমার মতো আন্তর্জাতিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে পরিচিত এই নদীটির দু’পাড়জুড়ে এখন গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। মিরপুর-মোহাম্মদপুর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে রেস্তোরাঁ, পার্ক, কারখানা, বালুর ডিপোসহ বিভিন্ন গড়ে ওঠা স্থাপনা, যা সরাসরি নদীর জমি দখল করে নির্মিত। বাপা ও নদী রক্ষা আন্দোলনের তথ্যমতে, তুরাগ নদীর অন্তত ১,৩৯৮ একর জমি বর্তমানে অবৈধ দখলে। ১৫২টি সীমানা পিলারের মধ্যে ৯০টিরও বেশি ইতোমধ্যে দখলদারদের কারণে বিলীন বা অদৃশ্য হয়ে গেছে।সরেজমিনে মিরপুরের দিয়াবাড়ী, কাউন্দিয়া, চটবাড়ী, নবাবেরবাগ ও তুরাগ সিটি এলাকায় দেখা গেছে, নদীর পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে নেবারল্যান্ড পার্ক, তামান্না ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড, এবং আরও একাধিক বাণিজ্যিক ও বিনোদন কেন্দ্র। নদীর সীমানা পিলার পড়েছে এসব স্থাপনার ভেতরেই। বড় দখলদারদের তালিকায় রয়েছে:
এনডিই রেডিমিক্স, ক্রাউন সিমেন্ট, তুরাগ রিক্রিয়েশন ওয়ার্ল্ড, রেজা কনস্ট্রাকশন, সোনার বাংলা স্টোন ক্রাশার, জারা নিট কম্পোজিট!
সিমরান কম্পোজিটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।এছাড়াও বিভিন্ন কথিত সমবায় সমিতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাছের খামার ও রেস্তোরাঁর আড়ালে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও দূষণের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাতাসে ঘন ঘন উড়ে বেড়ানো বালুর কারণে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ‘বালু বৃষ্টি’, যা গৃহস্থালির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, নদী দখল করে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়া রাজধানীর জন্য মারাত্মক হুমকি। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আশপাশের খাল ও নদীগুলো পুনরুদ্ধার করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তবে তা স্থায়ী করতে হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও জনগণের সহায়তা জরুরি। তিনি আরও বলেন, তুরাগকে বাঁচাতে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই বড় পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ দখল, বালু ব্যবসা ও পরিবেশ দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তুরাগের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। নদীটি রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খনন কার্যক্রম জোরদার এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
