রাঙ্গামাটির জুরাছড়ির দুর্গম লেবারপাড়া গ্রামের এক অসহায় বিধবা লুংঘাছড়ি চাকমা (৬৫) দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য ও কষ্টের জীবন কাটাচ্ছিলেন। বুধবার (২০ আগস্ট) রাঙ্গামাটি রিজিয়নের জুরাছড়ি জোন তাকে নতুন একটি ঘর উপহার দিয়েছে।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের চাবি তুলে দেন জুরাছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মুশফাক আমিন চৌধুরী, পিএসসি। ঘর হাতে পেয়ে লুংঘাছড়ি চাকমার আনন্দের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। তিনি বলেন,আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ চেয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা ও অন্যান্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মেজর মুশফাক আমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন,শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সেনাবাহিনী সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চায়। মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবার কাজ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, অতীব শীঘ্রই পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি ঘর নির্মাণ করা হবে, যা গৃহহীনদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দাঁড়াবে এবং জুরাছড়ি উপজেলার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করবে।
স্থানীয়রা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় দারিদ্র্য ও কষ্ট যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে সেনাবাহিনীর এই ধরনের উদ্যোগ নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবনকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা সমাজের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন,এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড পাহাড়ের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এটি শুধু একটি ঘর নয়, বরং নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক।
একজন বিধবার জন্য একটি ঘরই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার নতুন আশ্বাস ও সাহস, সেনাবাহিনীর মানবিক ছোঁয়া সেই আশা আরও দৃঢ় করেছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
