কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অর্থাভাবে থেমে গেছে মেধাবী শিক্ষার্থী মর্জিনা আক্তারের চোখের চিকিৎসা। দুই বছর ধরে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না সে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তার পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণের পথচলা। পরিবারটি এখন চরম দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহ
উপজেলার মধ্য পরুরা ৯ নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মোঃ মস্তুফা মিয়ার মেয়ে মর্জিনা আক্তার (১৬)। স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো সে। পড়াশোনায় মনোযোগী মর্জিনা একসময় স্বপ্ন দেখতো ভালো ফল করে পরিবারকে স্বাবলম্বী করবে। কিন্তু চোখে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা করালেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছে।
পারিবারিক অবস্থা
আট সদস্যের পরিবারে একমাত্র মেয়ে মর্জিনা। পিতা মস্তুফা মিয়া গ্রামে হকারি করে সংসার চালান। পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ের সংসারে তার পক্ষে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয়নি। যা কিছু সঞ্চয় ছিলো, তা শেষ করে ফেলেছেন। ফলে দারিদ্র্যতার কারণে চিকিৎসা একেবারে থমকে গেছে।
অভিভাবকদের বক্তব্য
পিতা মস্তুফা মিয়া বলেন,
"যা কিছু ছিলো সবই মেয়ের চিকিৎসায় শেষ করেছি। পড়াশোনার অনেক ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু চোখের সমস্যায় সবকিছু থেমে গেছে। আমরা এখন একেবারেই অসহায়।"
মা ফাতেমা বেগম বলেন,
"যদি সঠিক চিকিৎসা হতো, মর্জিনা সুস্থ হয়ে উঠতে পারতো। কিন্তু টাকার অভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না।"
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কটিয়াদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের জানান,
"খোঁজ নিয়ে তাকে সরকারি সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন,
"অর্থাভাবে একজন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। পাশাপাশি দানশীল ব্যক্তিরাও এগিয়ে আসতে পারেন।"
স্থানীয়দের আশা
এলাকাবাসী ও পরিবার মনে করে—সরকারি, বেসরকারি এবং দানশীল মানুষের সহায়তা মিললে মর্জিনা আবারও চিকিৎসা পেয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারে এবং নতুন করে স্বপ্ন গড়তে পারবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
