রংপুরে "জুলাই অভ্যুত্থান ও শ্রমজীবীদের হিস্যা" শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শ্রমিক অধিকার আন্দোলন এর উদ্যোগে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মির্জা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হক, সাংবাদিক রঞ্জন দে, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী ডলার, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সবুজ রায়, রেদোয়ান ফেরদৌস, কৃষক সংগঠক আব্দুস সাত্তার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যুগেশ ত্রিপুরা প্রমুখ।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শহীদ তাহির জামান প্রিয়’র পিতা মোস্তফা জামান, শহীদ মোসলেম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার, শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মাতা ময়না বেগম, শহীদ মেরাজুল ইসলামের মা আম্বিয়া খাতুনসহ আরও অনেকে।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন আহসান আহমেদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বীথি দাস নন্দিনী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মির্জা বলেন,
“বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমজীবীদের ভূমিকা, তাদের আত্মত্যাগ এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মূল্যায়ন জরুরি। জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একটি সময় নয়, এটি পুরো জাতির চেতনায় স্থায়ী ছাপ ফেলে যাওয়া এক যুগান্তকারী ঘটনা।”
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ভুলে যাচ্ছে এবং পুরনো শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে শ্রমিক শোষণের ক্ষেত্র বাড়াচ্ছে। শ্রমিকরা রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী হলেও তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক হিস্যা অনিশ্চিত।”
সভাপতি অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন,
“গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যের পর শ্রমিক সংগঠনগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিচার, ক্ষতিপূরণ, মামলা প্রত্যাহার, বকেয়া পরিশোধ, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, বন্ধ কলকারখানা চালু, গ্রামীণ রেশনিংসহ সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি উত্থাপন করেছিলো। কিন্তু সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।”
আলোচকরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের সুচিকিৎসা এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। সেইসাথে শোষণ-বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
আলোচনা সভা শেষে জাগরণের গান পরিবেশন করেন রহমত সোহাগ ও সাম্য তরফদার বন্ধন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
