অভাব, সংগ্রাম আর অদম্য স্বপ্নের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত গড়েছেন ৬০ বছর বয়সী রিকশাচালক নান্দু সরকার। রিকশার প্যাডেলে ঘাম ঝরিয়ে গড়ে তুলেছেন সন্তানের ভবিষ্যৎ। আর সেই স্বপ্নের সার্থক পরিণতি এসেছে ছেলে মনিরুজ্জামান রাজুর সাফল্যের মাধ্যমে— সদ্য ঘোষিত ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের নান্দু সরকার ঢাকার মগবাজারের একটি মেসে একা থেকে বছরের পর বছর সংসারের ঘানি টেনেছেন। নিজের শিক্ষাজীবন প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও ছেলের পড়াশোনায় কখনো আপস করেননি। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অব্দি রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তার বেশিরভাগই যেত রাজুর পড়াশোনার খরচে। ভাড়া ও সীমিত ব্যয় বাদ দিলে হাতে থাকত মাত্র তিন থেকে চারশ টাকা—তবুও সন্তানকে শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে অটল ছিলেন।
অক্লান্ত সংগ্রামের পর যখন রাজু বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর দিলেন, তখন যেন বহু বছরের দুঃখ–কষ্ট ভুলে গেলেন বাবা। আনন্দাশ্রুতে ভেসে নান্দু সরকার বলেন, বাবা, হামারে আর বেশিদিন রিকশা চালাইতে হইবো না। আমার ছেলে তো বিরাট অফিসার হইছে।
এই গল্প শুধু এক বাবার নয়—এটি সেই সব ত্যাগী পিতামাতার প্রতীক, যারা নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জন্য ভবিষ্যতের আলো জ্বালান। নান্দু সরকারের অদম্য পরিশ্রম আর অবিচল মনোবল আজ সমাজে অনুপ্রেরণার নতুন বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
