বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা এবং আগামীর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনে কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
শনিবার সন্ধ্যায় খুলনার দৌলতপুরে পেশাজীবী ফোরাম আয়োজিত শিক্ষা উপকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই রকিবুল ইসলাম বকুল গভীর আবেগের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন,বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী, যিনি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন, তিনি আজ মৃত্যুশয্যায়। দেশের মানুষ যাকে সম্মানের সঙ্গে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে—সেই নেত্রী আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন,গণতন্ত্রের স্বার্থে যিনি ঘর থেকে রাজপথে নেমে এসে দীর্ঘ ৯ বছর আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন, সেই দেশনেত্রীকে আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। তার সুস্থতা শুধু বিএনপির নয়—সমগ্র জাতির কামনা।
বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা’র কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে। গণমুখী শিক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিক্ষা চালু করতে হবে।এমন শিক্ষা চাই যাতে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষে বেকার না থেকে দেশের সম্পদে পরিণত হয়।
তিনি আগামী শিক্ষা কাঠামোর তিনটি মূল দিক তুলে ধরেন প্রথম শ্রেণি থেকেই বাংলা, ইংরেজি ও অতিরিক্ত একটি আন্তর্জাতিক ভাষা (আরবি, ফ্রেঞ্চ, ম্যান্ডারিন বা স্প্যানিশ) বাধ্যতামূলক করা। নবম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য অনুযায়ী ভোকেশনাল বা আইটি-ভিত্তিক কারিকুলামে যুক্ত করা।দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর বদলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী বিদেশে পাঠানো।
বক্তব্যে বকুল বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা বিস্তারমুখী পদক্ষেপ স্মরণ করে বলেন,
“ম্যাডাম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—একজন শিক্ষিত মা-ই একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীল কাজ ও মানবিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৌলতপুর-মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শাহিনা সুলতানা, উপস্থিত ছিলেন ড. শেখ শরিফুল আলম,সরদার আল মাসুদ লিটন,মো. দাউদ অর রশীদ শাওন,এসব অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী,সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন,সাবেক ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান,খুলনা বর্ডার গার্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা খন্দকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পূর্বঘোষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয় দেশনেত্রীর অসুস্থতার কারণে।
খুলনা-৩ আসনের দৌলতপুর,খালিশপুর, খানজাহান আলী ও আড়ংঘাটা থানার বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
