চুয়াডাঙ্গায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ একই স্হানে এসে শেষ হয়।
এরপর শহীদ হাসান চত্বরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ডাকসু হল সংসদের পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসির আল মাস্তুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব ও সেক্রেটারী তুষার ইমরান সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার মুখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলাম ও সদর উপজেলা সদস্য সচিব ফাহিম উদ্দিন মভিন,
ওয়ারিয়র্স অব জুলাই চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন,
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির, চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি সাগর আহাম্মেদ, আপ বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গার সভাপতি স্বপন, মাসুম, পারভেজ, ইমরান,প্লাবন, সাব্বির, নাসিম, তামিম, আমিরুল বাসার বিপ্লব, আনাস, আকাশ, লিটন, সোহাগ, ইউশা, শিহাব, তুহিন প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালীন চুয়াডাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আমিনুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের 'বিক্ষোভ করার' অনুমতি পত্র দেখতে চান। অনুমতি পত্র না থাকায় ৫ মিনিটের মধ্যে তিনি বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ করার নির্দেশ দেন। এতে করে ঘটনাস্থলে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাই যুদ্ধ কোন অনুমতি নিয়ে হয়েছিল ? হাদী একজন জুলাই যোদ্ধা, তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে কারনে এ বিক্ষোভ। এতে অনুমতি নেয়ার কি আছে ? এ সময় সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
একই দাবীতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর জীবননগর উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে সর্বদলীয় ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান রিমনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আল মাহমুদ, জীবননগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইখলাছুর রহমান রাসেল, জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, জীবননগর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী, জীবননগর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রিংকু ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হাদী হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। যদি প্রশাসন ও রাষ্ট্র জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে জনগণের কাতারে নেমে আসা উচিত। তারা আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদীকে বারবার হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাদী ভাইয়ের শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছে, তা বৃথা যাবে না।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদী। প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা শেষে ওই দিনই এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই জুলাই যোদ্ধা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
