বয়স কেবল কর্মজীবনের কাগজে-কলমে লেখা একটি হিসাবমাত্র-জীবনের অনুভূতিতে তার খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। তারই প্রমাণ রেখে গেলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ১৯৯২ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সময়ের দীর্ঘ যাত্রায় চুলে জমেছে বয়সের ছাপ, তবু হৃদয়ের গভীরে আজও বাজে স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি, জেগে আছে শৈশবের উচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের উষ্ণতা।
দীর্ঘ বিরতির পর সহপাঠীদের মিলনে মুহূর্তেই বদলে যায় সময়ের হিসাব। হাসি, আবেগ আর স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে পুরো আয়োজন। পুরোনো দিনের ক্লাসরুম, পরীক্ষার টানটান উত্তেজনা, প্রিয় শিক্ষকের কথা আর দুরন্ত শৈশব-সবকিছু যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা সাফারি পার্কে আয়োজন করা হয় এই পিকনিক ও পুনর্মিলনী উৎসব। আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন মুক্তাগাছা ৯২ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
সকালে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিকতা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকেন ৯২ ফাউন্ডেশনের বন্ধুরা। কাউকে দেখেই আবেগে জড়িয়ে ধরছেন কেউ, আবার কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন স্মৃতির গভীরে-স্কুলজীবনের গল্পে, পুরোনো দিনের হাসি-কান্নায়।
মুক্তাগাছা উপজেলার ১৯৯২ ব্যাচের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত বন্ধুরা এই মিলনমেলায় অংশ নেন। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও জীবনের নানা অধ্যায়ের গল্প।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নাচ, গান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সহপাঠীদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্যে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন। হাসি-আড্ডা, স্মৃতিচারণ আর গল্পে গল্পে কখন যে সময় গড়িয়ে যায়, তা যেন কেউ বুঝতেই পারেননি।
৯২ ফাউন্ডেশনের আয়োজকেরা জানান, এমন পুনর্মিলনী কেবল স্মৃতির ঝালক নয়; বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। অংশগ্রহণকারীরাও বলেন, ব্যস্ত ও একঘেয়ে জীবনের মাঝখানে এমন আয়োজন নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয় এবং সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে লটারির মাধ্যমে কুপন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মুক্তাগাছা ৯২ ফাউন্ডেশনের লোগোসংবলিত ব্যাগ ও মগ উপহার হিসেবে দেওয়া হয় সবার হাতে। আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতির রেশ নিয়ে সবাই ফিরে যান পরবর্তী মিলনের আশায়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
