বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ বলেছেন, সিলেট একটি আধ্যাত্মিক নগরী, একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরী। একসময় সিলেট অবহেলিত থাকলেও পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই এ নগরীর মূল উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, আগে সিলেট নগরীর জনসংখ্যা ছিল প্রায় তিন লাখ। বর্তমানে বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবতা অনুযায়ী এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার অতিরিক্ত মানুষ সিলেট নগরীতে যাতায়াত ও অবস্থান করেন। কারণ সিলেট একটি কেন্দ্রীয় নগরী—এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হলেও অনেককেই নগরীর মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট নগর ভবন পরিদর্শন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ আকমল হোসেন আজাদ বলেন, সিলেটের প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মনোযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেসব প্রকল্প এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। সিসিকের প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে পরিকল্পনা কমিশনে উপস্থাপিত হলে দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, সিলেট নগরীতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন সফল করা এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন সম্পন্ন করতে আপনারা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন, তা অব্যাহত থাকলে দেশ একটি নতুন সোনালি দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আশরাফুজ্জামান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভৌত অবকাঠামো বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী, উপসচিব শারমিন আক্তার, সিনিয়র সহকারী সচিব মাকসুদা আক্তার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, সিসিকের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ সিসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ নগর ভবনে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। পরে তিনি নবনির্মিত নগর ভবনের ৭ম থেকে ১২তম তলার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সভার শুরুতে সিসিকের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
