চট্টগ্রাম: ফটিকছড়ি উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সহকারী বন সংরক্ষকসহ চারজনকে স্থানীয়দের হামলার শিকার হতে হয়েছে। হামলার পর বিক্ষুব্ধ জনতা চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্ল্যাছড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন: সহকারী বন সংরক্ষক খান মো. আবরারুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, বনকর্মী খন্দকার মাহফুজ আলী এবং স্কেভেটরের চালক বিপ্লব।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সংরক্ষিত বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মাইকিং করে ‘মসজিদে হামলা হচ্ছে’ বলে গুজব ছড়িয়ে দেয়। এতে উত্তেজিত হয়ে শতাধিক মানুষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। আহতরা মূল সড়কে উঠে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে মানিকছড়ি নয়া মসজিদ এলাকায় কয়েকজন স্থানীয় পথ অবরোধ করেন। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহিমও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বন এলাকায় শাহ আলম নঈমী নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাদ্রাসা ও স্কুল নির্মাণের নামে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছিলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
