আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নিরাপত্তা প্রহরী মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি (মিউটেশন)সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে সেবাগ্রহীতাদের ওই প্রহরীর কাছে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকার ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রহরী মানিক মিয়া কার্যালয়ের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে না থাকলেও তার কক্ষে বসে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করে নামজারিসহ স্পর্শকাতর দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে সরকারি নথিপত্র ও ফাইলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় দপ্তরের গোপনীয়তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি নামজারির জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়, আর টাকা না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী সুমন বসাক জানান, একটি কাজের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে গেলে প্রহরী মানিক তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে টাকা দেবেন বলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিজান নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, নামজারি করাতে তাকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরই মানিক মিয়া স্যারের কম্পিউটারে কাজ করে কাগজ ছাড় করে দেন। টাকা না দিলে ফাইল নড়ত না।
হাসিবুল ইসলাম নামে এক সেবাগ্রহীতা জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানালে প্রহরী মানিক ২০ হাজার টাকা দাবি করে বলেন, টাকা দিলে আর অফিসে আসতে হবে না, কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।
সরেজমিনে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে প্রথমেই প্রহরী মানিক কথা বলেন। সমস্যা জেনে তাদের পাশে বসিয়ে সহজে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রহরী মানিক মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অফিসের কিছু কাজ করেন ঠিকই, তবে তা নিয়মের বাইরে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতিতে। এসিল্যান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন এবং কারও কাছ থেকে টাকা নেন না বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের টাকায় সাভার এলাকায় তার নিজস্ব জমির ওপর পাকা ভবন, একাধিক ফাঁকা প্লট এবং স্ত্রীর নামে কেনা জমি রয়েছে। একাধিক ব্যাংক হিসাবে তার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বেশিরভাগ ঘুষের লেনদেন অফিসের বাইরে সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রহরী মানিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
