ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুগত কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) অনুষ্ঠিত মানববন্ধন নিয়ে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করায় কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, মানববন্ধনটি ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে করা হয়েছে এবং এভাবে প্রকারান্তরে তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা গত জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিরোধিতা করেছেন, ছাত্রদের মাধ্যমে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন এবং বর্তমানে সেই শিক্ষকদের পক্ষ সমর্থন করে সিকৃবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক আ ক ম জামাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলুদ দলের নেতা ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ, এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীসহ কয়েকজনের পক্ষ সমর্থন করে মানববন্ধন করা হয়েছে—যাদের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করছেন যে তারা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ক্যাম্পাসের একাংশের এই ক্ষোভের সঙ্গে অন্য অংশের বক্তব্যও রয়েছে যে, মানববন্ধন একধরনের ন্যায়বিচারের দাবির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বর্তমান বিতর্কে সিকৃবি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
