প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ সীমান্ত জনপথ সিলেট-৪ আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ২৩২ নম্বর আসনে প্রধান দুই প্রার্থীকে ঘিরে ভোটের উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তাঁর বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, জামায়াত নেতা ও জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্রার্থীর সরব প্রচারণা ও কর্মীদের গণসংযোগে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই নেতাকেই কেন্দ্র করে। ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন—তা নির্ধারিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই।
রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরী একটি পরিচিত নাম। অতীতে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে দু’বার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর অনুসারীরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এই আসনেও তিনি নিজের জনপ্রিয়তার প্রভাব রাখতে সক্ষম হবেন।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় জয়নাল আবেদীন নিজ এলাকার প্রার্থী হওয়ায় ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত’ ইস্যুতেও আলোচনায় রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা বেড়েছে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডায় ভোটের হিসাব-নিকাশ ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শেষ পর্যন্ত এই দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি কে হাসবেন—তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সীমান্ত জনপদের ভোটাররা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
