ফরিদপুর পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঠিক মানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েক যুবক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮৮ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। সিরাজগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মির্জা কনস্ট্রাকশন কাজটি বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ শেখ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় তিন মাস আগে কাজ শুরু হয়।
মুরাদ শেখ অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহার শেখসহ ৮-১০ জন নির্মাণকাজে বাধা দেন। পরে সন্ধ্যায় আলোচনায় বসলে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ সময় কাজের অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাহার শেখ ও শামিম হোসেন সামিউল নামে দুই যুবক। তারা অভিযোগ করেন, ব্যবহৃত ব্লকে নিম্নমানের উপাদান রয়েছে এবং নির্ধারিত ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া পলিথিন ও ময়লা মিশ্রিত মাটি এবং নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তারা।
এ সময় ঠিকাদারের প্রতিনিধির সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাহার শেখ বলেন, “সড়ক নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে শায়েস্তা করতে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।
ফরিদপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লাইজিং হোসেন রাজু বলেন, “কাজে কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ টাকা দাবি করেছে বলে শুনেছি।”
ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত সমাধানে ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চাঁদা দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
