মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহেও। গত কয়েক দিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অবস্থিত যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা—এই তিনটি তেল ডিপোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ডিপোর সামনে ১০ জেলার ট্যাংক লরির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।
ডিপো সূত্রে জানা যায়, ভৈরব থেকে প্রতিদিন সিলেটের হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও কুড়িগ্রামসহ ১০টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ২৭ জন এজেন্টের মাধ্যমে তেল বিতরণ করা হয়ে থাকে।
ডিপোর ইনচার্জরা জানান, জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে সরকারের নির্দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে পাম্প মালিকদের চাহিদার তুলনায় ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে স্থানীয় এজেন্টদের কাছে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এজেন্টরা জানান, তারা স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে কৃষি সেচের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাম্প মালিকরাও জানান, তারা ডিপোতে এসে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। এতে পাম্পে গ্রাহকদের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভৈরব জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় আমরা কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে তেল সরবরাহ করতে পারছি না। এতে কৃষি কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
নরসিংদীর ভূইয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. কলিম এবং জামালপুর থেকে আসা ট্যাংক লরি মালিক তাহের জানান, তাদের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেল। কিন্তু ডিপো থেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার। এত দূর থেকে এসে এত কম তেল নিয়ে তাদের খরচও মিটছে না।
এ বিষয়ে যমুনা তেল ডিপোর ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ নেই। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ লিটার তেল মজুদ রয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১০ জেলার ৩০ জন পাম্প মালিককে রেশনিং পদ্ধতিতে ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ২৭ জন এজেন্টের কাছে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।”
মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোর ইনচার্জ নাজিম উদ্দীন বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে মজুদ রয়েছে মাত্র ১২ লাখ লিটার। তবে আরও একটি জাহাজ ৯ লাখ লিটার তেল নিয়ে ঘাটে পৌঁছেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সরবরাহ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, গত ৫ মার্চ পর্যন্ত এজেন্ট ও পাম্প মালিকরা চাহিদার তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
