বাড়ির পথে আনন্দের যাত্রা রূপ নিল চিরস্থায়ী বিষাদে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠার সময় দুই নৌযানের প্রবল ঘর্ষণে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সোহেল ফকির (২২) এবং তার বাবা মজিদ ফকির। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে একটি সাজানো সংসার, যার সাক্ষী হয়ে রইলেন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল ফকির তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। সাথে ছিলেন তার বাবা মজিদ ফকিরও। ট্রলারযোগে তারা লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য একটি লঞ্চের প্রবল ধাক্কায় দুটি বিশাল নৌযানের মাঝখানে চাপা পড়েন বাবা ও ছেলে।
ঘটনাস্থলেই সোহেল ও তার বাবা মজিদ ফকিরের মৃত্যু হয়। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান সোহেলের স্ত্রী রুবা ও তার অনাগত সন্তান।
স্বপ্নভঙ্গের বেদনা
মাত্র ২২ বছর বয়সী সোহেলের চোখেমুখে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দ এবং অনাগত সন্তানকে নিয়ে একরাশ স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই আনন্দের সফর পরিণত হলো লাশের মিছিলে।
সোহেলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের এক সদস্য জানান:
> "সোহেল বাড়ি ফিরছিল পরিবারকে সময় দিতে। ওর অনাগত সন্তানের মুখ দেখার খুব শখ ছিল। আজ সব শেষ হয়ে গেল। এই শিশুটি কোনোদিন তার বাবার মুখ দেখবে না, জানবে না বাবার আদর কেমন হয়।"
>
এলাকায় শোকের ছায়া
এই ঘটনার পর মেহেন্দিগঞ্জ ও সোহেলের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। বাড়ির মেজো ছেলে সোহেল ও অভিভাবক মজিদ ফকিরকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। স্থানীয়রা নৌ-পথে এই ধরণের অশুভ প্রতিযোগিতা এবং অসতর্কতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
