নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে দুশ্চিতায় পরেছেন অসহায় মানুষ। ছবি: অর্ণব
বরিশাল: বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
দীর্ঘদিনের বসতভিটা ও শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। কোথাও বসতভিটার একাংশ নদীতে বিলীন হচ্ছে, আবার কোথাও ভাঙনের কবল থেকে ঘরবাড়ি রক্ষায় পরিবারগুলো নিজেরাই প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।
অনেক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, চোখের সামনে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখার চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই। আজ যে জায়গায় ঘর রয়েছে, আগামীকাল সেটিও নদীতে চলে যাবে কি না—এই দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন-রাত। ভিটেমাটি হারালে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন, সেই চিন্তায় অনেকের এখন মাথায় হাত।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
নদীভাঙনের কারণে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ফসলি জমি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ইতোমধ্যে চরগোপালপুরের গাজী বাড়ি সংলগ্ন এলাকা এবং আলিমাবাদের চর মিঠুয়া এলাকার উল্লেখযোগ্য অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা আরও বলেন, নদীভাঙন মেহেন্দিগঞ্জের মানুষের কাছে প্রতিবছরের আতঙ্ক হলেও এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ কিংবা জমি কেনা প্রায় অসম্ভব।
ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি
চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা, নদীতীর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভাঙন রোধে নৌ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ
এদিকে নদীভাঙনের ভয়াবহতা বিবেচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের সমস্যা সরেজমিনে দেখে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান নদীতীর প্রতিরক্ষা ও ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানিসম্পদমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ডিও লেটার দেন। ওই চিঠিতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙনকবলিত ১৪টি এলাকার কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—চরএককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর এলাকা, আদর্শনগর ইউনিয়নের নলবুনিয়া, দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট ও বামনের চর, চরগোপালপুর ইউনিয়নের চর মিঠুয়া, মোস্তফা বাজার ও চর মিঠুয়া হাইস্কুল, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গালিয়া, খাসকান্দি, লেঙ্গুটিয়া লঞ্চঘাট, চর শেফালি ও আমীরগঞ্জ, সদর ইউনিয়নের ধুলিমধ্যচর এবং উলানিয়া ইউনিয়নের উলানিয়া লঞ্চঘাট ও স্কুল এলাকা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত এলাকাগুলোতে দ্রুত সমীক্ষা ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে নদীভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের আতঙ্কও কিছুটা কমবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
