পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্যের সন্দেহে বিপুল পরিমাণ বস্তাভর্তি মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে আলগী নদী সংলগ্ন বন্দরের ধানহাটা ট্রাকস্ট্যান্ডে একটি কার্গো থেকে এসব বস্তা জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে পণ্য খালাসের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা কয়েকটি বস্তা খুলে দেখেন, সেখানে এক ধরনের বীজ পাওয়া যায়, যা তাদের ধারণা অনুযায়ী পপি সিড হতে পারে। এছাড়া কিছু বস্তায় সুপারি পাওয়া গেছে। বাকি বস্তাগুলোতেও অবৈধ পণ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই রাতেই সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকলে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়দের হাতে বস্তাগুলো আটকের পর কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মধুসূদন দাস ওরফে মধু মেম্বারের দুই ছেলে উত্তম দাস ও আশিস দাস ঘটনাস্থলে এসে পণ্যগুলো নিজেদের বলে দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ নিয়ে দেনদরবার চলে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জব্দকৃত এসব পণ্য কালাইয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মধুসূদন দাসের ছোট মেয়ের জামাতা জয়দেব দাসের হতে পারে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে তেঁতুলিয়া নদীতে চন্দন কাঠের একটি চালান জেলেদের হাতে ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি রক্ষা পান। এছাড়া ২০২১ সালে কালাইয়া বন্দরের আলগী নদী এলাকায় প্রায় ৩ হাজার বস্তা অবৈধ পণ্যসহ দুটি কার্গো স্থানীয়দের হাতে আটক হলেও একইভাবে তিনি পার পেয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয়দেব দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জয়দেব দাসের শ্যালক আশিস দাস বলেন, “কোনো কারণ ছাড়াই বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে। কিছু বস্তায় পোস্তদানা ও সুপারি রয়েছে। কোনো অবৈধ মালামাল নেই।
বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৪৪৪ বস্তা ট্রাকে তোলা হয়েছে। মোট ৭৫০ থেকে ৮০০ বস্তা মাল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দকৃত পণ্যের প্রকৃতি যাচাই করে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, “এ ঘটনায় কোনো ধরনের লুকোচুরির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
