সিলেট বিভাগে দিন দিন বাড়ছে সংক্রামক রোগ হাম আক্রান্তের সংখ্যা। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ অঞ্চলে হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগ শনাক্তের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে রাজধানীর ল্যাবের ওপর, এতে যেমন সময় বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ২০ শয্যার একটি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে আইসোলেশন কার্যক্রম চালুর পর তিন দিনে সেখানে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ১৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, আইসোলেশন চালুর পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, “অযথা আতঙ্কিত না হয়ে হামের লক্ষণ দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। আক্রান্ত হলে নিজে এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্য অবশ্যই আইসোলেশনে থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গত তিন দিনে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।” তিনি জানান, রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২০ ও ২২ বছর বয়সী দুই ভাই-বোন রয়েছেন, বাকি সবাই শিশু।
রোগীদের স্বজনরা জানান, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে তারা সন্তোষজনক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন এবং তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
