চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের আগেই ৪ জন শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ওই ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আরও দুই পাচারকারীকে আটক করে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বিকেলে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার সার্বিক দিকনির্দেশনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখের তত্ত্বাবধানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা (৩৭), তার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), আমির হোসেন মোল্লার ছেলে লিমন মোল্লা (৩০), তার স্ত্রী সাথী খাতুন (২৫), রাকিবের ছেলে রিহান মোল্লা (৫), মেয়ে ফাতেমা খাতুন ও ফারিয়া খাতুন এবং লিমনের ছেলে ইসমাইল মোল্লা (১)।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং ৭-৮ মাস আগে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
দালালরা তাদের ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে “কার্টুন তৈরির ভালো কাজ” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করে। যশোরের মনিরামপুর এলাকার এক দালালের মাধ্যমে জীবননগরের স্থানীয় দালালদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়।
রবিবার ভোরে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে দালালরা কৌশলে তাদের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং রাকিব মোল্লাকে মারধর করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেনীপুর গ্রামের ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেন (৪০) নামের দুইজনকে আটক করে।
উদ্ধার হওয়া ৮ জনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
