ভৈরবে চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধর করাকে কেন্দ্র করে দুই বংশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করেছে
পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় শাহেদ আলী মিয়ার বাড়ি ও সেভেন স্টার বংশের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার শুরু সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে। চন্ডিবের এলাকার শাহেদ আলী মিয়ার বাড়ির জানালা দিয়ে সেভেন স্টার বংশের সারফিন নামের এক যুবক উঁকি দিচ্ছিল। এসময় চুরির সন্দেহে বাড়ির লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই দুই বংশের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। পরে রাতের ঘটনাটি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু সালিশ বসার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকালে শাহেদ আলীর বাড়ির উদয় নামের এক যুবক তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় সেভেন স্টার বংশের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে মারধর করে সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই খবর শাহেদ আলীর বাড়িতে পৌঁছালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে আহত ২০ জনের মধ্যে একপক্ষের ১০ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তবে এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে দ্বিতীয় পক্ষের আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
