ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

উৎসবকে ঘিরে পাহাড় জুড়ে আনন্দের বন্যা ফুল ভাসিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু বৈসাবি উৎসব

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(৬ মাস আগে) ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ৬:২৪ অপরাহ্ন

banglahour

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব বৈসাবি শুরু হয়েছে। শনিবার (১২ এপ্রিল) সকালে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
ভোর থেকেই পাহাড়ি নারীরা বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করে কাপ্তাই হ্রদে জড়ো হন। পুরনো বছরের গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ও অমঙ্গল দূর করার প্রার্থনায় তারা পানিতে ফুল ভাসান। নতুন বছর যেন সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে—এই কামনাই থাকে তাদের প্রার্থনায়।


ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে এ উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে রাঙ্গামাটি। ফুল ভাসানোর এই আয়োজন দেখতে ভিড় জমে কাপ্তাই হ্রদের তীরে।
এদিন গর্জনতলীতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুল ভাসানোর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা। এ সময় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাছে এ উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। চাকমারা একে ‘বিজু’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরারা ‘বৈসু’, তংচঙ্গ্যারা ‘বিষু’, মুরংরা ‘চাংক্রান’, খুমীরা ‘চাংলান’, সাঁওতালরা ‘পাতা’ এবং অহমিয়া বা গুর্খারা ‘বিহু’ নামে উদযাপন করে।


চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’, দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’ এবং তৃতীয় দিন ‘গোজ্যেপোজ্যে’ নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের মধ্যে এই তিন দিন যথাক্রমে ‘হারি বুইসুক’, ‘বুইসুকমা’ ও ‘বিসিকাতাল’ নামে পালিত হয়।


রাঙ্গামাটি বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার জানান, পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় এ উৎসব উদযাপন করা হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা।


আগামী ১৩ এপ্রিল পালিত হবে ‘মূল বিজু’। এদিন ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’ রান্না করে অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমে উৎসবের মূল আয়োজন সম্পন্ন হবে।

বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি এ খাবার চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।
ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বৈসুক উৎসবে ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, গরয়া নৃত্য পরিবেশন এবং সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ‘জলকেলি’, যেখানে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উদযাপন করেন।


উৎসবের শেষ দিন ‘গোজ্যেপোজ্যে’ পালিত হবে ১৪ এপ্রিল। এছাড়া ১৫ এপ্রিল কাপ্তাই চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এলাকায় এবং ১৭ এপ্রিল রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে সাংগ্রাই জলোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মাসব্যাপী এ উৎসব রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় চলবে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম