নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার জাহাজমোড় ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের কাজ ও অতিরিক্ত ধুলাবালির ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃতীয় শ্রেণির নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করায় তা যানবাহনের চাপে দ্রুত গুঁড়ো হয়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় চরম পরিবেশদূষণ সৃষ্টি হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাহাজমোড় এলাকার বাসিন্দা সঞ্জু মিয়া বলেন, “এমন খারাপ মানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে যে, গাড়ির চাকা পড়লেই তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন পুরো এলাকা লাল ধুলায় ঢেকে গেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
একই অভিযোগ করে হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করলেও পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে কমিশন দিয়ে তা চালিয়ে যাচ্ছে। টপ-টু-বটম সবাই ভাগ পাচ্ছে বলেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এই কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”
ধুলাবালির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল ব্যবসায়ী নুরজামাল বলেন, “ধুলোর কারণে হোটেলে খাবার রাখা যাচ্ছে না। ক্রেতা কমে গেছে, কর্মচারীরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দ্রুত টেকসই কাজ না হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ চলাকালে ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর মতো ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইনসান আলী বলেন, “ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সড়কের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। ড্রেন শেষ হলেই দ্রুত কাজ শেষ করা হবে এবং ধুলা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে জানতে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। পৌরসভার প্রশাসক বি. এম কুদরত-এ-খুদার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করতে হবে এবং কাজ চলাকালে দিনে অন্তত তিনবার পানি ছিটিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনগণের করের টাকায় হওয়া উন্নয়ন কাজ যদি এভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়, তাহলে এর জবাবদিহি করবে কে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
