ভৈরবে মানিকদী পুরান গাওঁয়ে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে \ শনিবার দিবাগত গভীর রাতে বাদী তাসলিমা ও তার ভাই হাকিম মিয়ার বসত ঘরে পেট্রােল দিয়ে আগুণ ধরিয়ে দেয় শিশু পুত্র হত্যা মামলার আসামী মেরাজ মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুণ নেভাতে সক্ষম হয় । এ এ বিষয়ে মামলার বাদী তাসলিমা বেগম ও তার বোন আকলিমা বেগম .বাবা আক্তার হোসেন ও প্রতিবেশী মোশারফ হোসেন জানান রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে পুত্র হত্যা মামলার বাদী তাসলিমা বেগম,তার বোন আকলিমা, বাবা আক্তার হোসেনসহ পরিবারের ১২ জন সদস্য ২টি বসত ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন ।
কিন্ত রাত ১২টার দিকে আকলিমার শিশু পুত্র অসুস্থ অবস্থায় বমি করছিলেন। পুত্রের অসুস্থতায় ঘুম ভাঙে আকলিমার। পরে তিনি ঘুমানোর চেষ্টা করেন। রাতট ২টার দিকে তার ঘরে কে বা কারা কি যেন ঢালছে সে শব্দে ঘুম ভাঙে। তার বোন জানান মনে হচ্ছিল টিনের মাঝে বৃষ্টির শব্দ। কিন্ত শব্দ শোনে বুঝতে পারছি কে যেন ঘরে পট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরে ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান তার পুত্র হত্যাকারী বাবা মেরাজ মিয়া ও তার সাথে বেশ কয়েক জন। পরে মেরাজ মিয়া তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায় । এ সময় সে তার ঘুমন্ত মা-বাবা ভাই সহ পরিবারের লোকজনদেরকে ঘর থেকে ডেকে বাহিরে নিয়ে আসনে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসিদের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষনে ঘরের ভিতরে আসবাবপত্র ,নগদ কয়েক লাখ টাকা ও এমনকি পরনের কাপড়-চোপড় সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়রা জানান, হত্যা মামলার আসামী মেরাজ মিয়া এমন কাজ করছে বলে ধারণা করছেন। তবে এমন জঘন্যতম ও ঘৃণ্য কাজ করার জন্য তারা মে,রাজসহ জড়িতদের ফাসিঁর দাবী জানান।
উল্লেখ্যঃ সম্প্রতি তাসলিমার সাথে তার স্বামীর পারিবারিক দ্বন্দের জেরে তাসলিমা তার ৭ মাস বয়সী শিশু পুত্র মোজাহিদ কে সাথে করে বাবার বাড়ি চলে যায়। বাবার যাওয়ার পর তার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ খবর শোনে শিশুটির দাদী ঔষধ কিনে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে মার কাছ থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে শিশুটির বাবা মেরাজ মিয়া শিশুটিকে নিয়ে যায়। শিশুটিকে ফিরে পেতে মা বার বার বাবার বাড়িতে যায়।
কিন্ত মেরাজ মিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানায় । টাকা দিলে শিশুটিকে ফেরত এনে দিবে । এর কয়েক দিন পর গত বৃহস্পতিবার বাবার বাড়ির পাশে ডোবায় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তবে এর আগে তাসলিমার স্বামী পূর্বকান্দা গ্রামের মেরাজ তার শিশু পুত্রকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী –বাদীপ হয়ে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তবে বসত ঘরে আগুন দিয়ে বাদী সহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করছে কি না তদন্ত করা হচ্ছে ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
