বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবনের দস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সাত জন অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দিয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলা এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
এর আগেও একবার আত্মসমর্পণ করেছিলাম। পরে রাজনৈতিকপট পরিবর্তন পর নির্যাতনের শিকার হয়ে পুনরায় দস্যুতায় ফিরে যাই। প্রশাসনের আশ্বাসে পুনরায় আত্মসমর্পণ করেছি। যদি প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাহলে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসব। বক্সপপ- সুমন হাওলাদার, বাহিনী প্রধান।
নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে তাদেরকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম, জোনাল কমান্ডার,সদর দপ্তর,কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।
সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অজ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
