কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় একসময় জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন অবহেলা আর অনাদরে বিলুপ্তির পথে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় এখনো দেখা যায় না সারি সারি খেজুরগাছ। ফল সংগ্রহের আগ্রহ কমে যাওয়ায় গ্রামগঞ্জে থেকে হারিয়ে যাচ্চে খেজুর গাছ ও ফল। এক সময় ঘরে ঘরে দেশী খেজুর ফল থাকলেও কালের বিবর্তনে এখন আর চোখেই পড়ে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক আগেও কটিয়াদীতে দেশি খেজুরের ব্যাপক কদর ছিল। বাজারে বিক্রি হতো এ ফল। কাঁচা খেজুর সংগ্রহ করে লবণ-পানিতে রেখে পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল গ্রামাঞ্চলে। সারা বছর গাছি সংকট, অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নগরায়ণের প্রতিযোগিতায় ক্রমেই এখানে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ। সময়ের পরিবর্তন ও খাদ্যাভ্যাস বদলে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের কাছে এই ফলের গুরুত্ব কমে গেছে।
কুড়িখাই এলাকার ষাটোর্ধ বয়সী মহরম আলী বলেন, পুরো এলাকায় প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে অন্তত ৩-৪টি বা আরও বেশি খেজুর গাছ ছিল, যা প্রায় বিলুপ্ত। আমাদের একটি এলাকায় অন্তত ৫০টি খেজুর গাছ ছিল। এখন দালান কোটা হয়ে যাওয়ায় খেজুর গাছ আর নেই। আগে অনেক গাছও ছিল, গাছিও ছিল। এখন গাছ ও গাছি কোনোটাই নেই।
বেতাল গ্রামের শিক্ষক রমজান আলী বলেন, ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে খেজুর খাওয়ার স্মৃতি এখনো মনে আছে। লবণ-পানিতে ভিজিয়ে খেজুর পাকানোর রেওয়াজ ছিল। বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সেই আগ্রহ নেই।
কটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক ডাঃ ঈসা খান জানান,দেশি খেজুর অবহেলিত হলেও এর পুষ্টিগুণ রয়েছে। দেশি খেজুরে বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান আছে। আঁটি বড় হলেও এটি শরীরের জন্য উপকারী।
পরিবেশ ও বনকর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, দেশি খেজুরগাছ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে এবং তেমন যত্ন ছাড়াই ফল দেয়।খেজুর গাছ আমাদের জীবন সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এখনো। তবে সে ঐতিহ্য এখন প্রত্যন্ত গ্রাম ছাড়া আর কোথাও নেই। নগরায়ণের কারণে ডেমরা খেজুর রসের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।একে ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি।
এই ঐতিহ্যবাহী গাছ ও ফল সংরক্ষণে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও উদ্যোগ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
