ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স স্থাপন, ডেগ সিলগালা; ক্ষোভ ভক্তদের

সারাদেশ | বিলকিস সুমি। ব্যুরো প্রধান। সিলেট।

(৪ মাস আগে) ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ৬:৫৮ অপরাহ্ন

banglahour

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলে নতুন দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মাজারে থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়েছে।


প্রশাসনের এ উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের ভক্ত ও অনুসারীরা। মাজার-সংশ্লিষ্টরাও এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে এটিকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও পরম্পরায় অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, দানের অর্থে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না; বরং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও মোতায়েন করা হয়।


এদিকে ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালার পর রাতে একদল ভক্ত দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অনুসারী বলেন, প্রায় সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের মাধ্যমে মাজারের দীর্ঘদিনের পরম্পরা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


দরগাহর খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, “এটি অত্যন্ত অন্যায় সিদ্ধান্ত। এটি মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। দানের অর্থ শুধু খাদেমরা গ্রহণ করেন না, বরং মসজিদসহ মাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও ব্যয় করা হয়। হিসাব-নিকাশ চাইতেই পারেন, তবে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।”


স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন।


এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে। হাতে হাতে দান গ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতিও বন্ধ করা হবে।


এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দানের অর্থ বণ্টনে একটি অনিয়মতান্ত্রিক প্রথা চালু রয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর কোনো উত্তরাধিকার নেই। ফলে এখানে প্রাপ্ত দানের অর্থ জনসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। সেই অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাজারের দানের কোনো অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না।

সকল অনিয়ম দূর করে দানের অর্থ মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নেই ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।”


জেলা প্রশাসক জানান, একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম