দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনুমোদন, গেজেট প্রকাশ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষকে বদলি করায় পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে, ফলে প্রকল্পটির তদারকি কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দন্ত রোগের জন্য কোনো সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকায় হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্থিকভাবে সক্ষম রোগীরা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিলেও অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি বা অদক্ষ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে খুলনার লবণচরা এলাকায় দেশের দ্বিতীয় সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে।
২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয় এবং ১ এপ্রিল বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, জমি নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও প্রকল্পটি এখনো একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ একর জমির ওপর ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, ১৩ তলা একাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী হল, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডরমিটরি, মর্গ, ডিএনএ পরীক্ষাগারসহ ২৮টি বিভাগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ১২০ জন শিক্ষার্থী ডেন্টাল চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত দন্ত চিকিৎসা সহজলভ্য হবে।
খুলনার মুজগুন্নি এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, “সাধারণ চিকিৎসার জন্য খুলনায় বিভিন্ন হাসপাতাল থাকলেও উন্নত দন্ত চিকিৎসার জন্য এখনো ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খুলনায় একটি সরকারি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. অনুপম পোদ্দার বলেন, “প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ফাইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতারা উদ্যোগ নিলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।”
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “অনুমোদনের পরও বছরের পর বছর প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।”
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
