প্রেম ঘটিত বিষয়ে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের অষ্টধার এলাকায় ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদন্ড ও দুই জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন।
এনামুল,নাজমুল মৃত্যুদন্ড, ৫০'০০০/- টাকা জরিমানা, জিয়াউল, জুলহাস ২০১,৩৪ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০,০০০/- টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন বিচারক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদরের অষ্টধার এলাকার মো. আকরাম হোসেনের
ছেলে সৈকত হাসান আকাশ এবং অভিযুক্ত জিয়াউল হক মেম্বারের মেয়ে জেসমিন আক্তার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণীতে পড়াশোনা করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জিয়াউল হকের পরিবার কোনভাবেই প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আকাশকে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর থেকে আকাশ বাড়ি না ফিরলে খোঁজাখুজি করে পাওয়া যায় না। ২১ মে দুপুরে এলাকাবাসির কথোপকথনে জানা যায় অভিযুক্ত জিয়াউল হকের টিন দিয়ে ঘেরাও বসতবাড়ীর অনুমান ২০ গজ উত্তরে বাঁশঝাড়ে টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তের মধ্যে খালি জায়গায় রক্ত মিশ্রিত মাটি দেখা যাচ্ছে।
এমন খবরে পরিবারের অন্যান্য লোকজনদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন। খবর পেয়ে পুলিশ টয়লেটের পাশে ময়লার নিচে গর্ত করা মাটি চাপা দেয়া পচা গলা অবস্হায় আকাশের গলকাটা মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় শিশু জেসমিন আক্তারসহ ১৩ জনের নামে অভিযোগ করেন নিহত আাকাশের বাবা মো. আকরাম হোসেন।
তদন্ত, সাক্ষী, জেরা-তর্কের শেষে আদালত অভিযুক্ত নাজমুল হক ও পলাতক এনামুল হককে মৃত্যুদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, এছাড়া জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের দন্ড প্রদান করেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের বিজ্ঞ কৌশুলী মো. আবু হানিফ খান, আসামীপক্ষে বিজ্ঞ কৌশুলী মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং পলাতক আসামীপক্ষে স্টেট ডিফেন্স বিজ্ঞ কৌশুলী মো. রফিকুল ইসলাম খান মামলাটি পরিচালনা করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
