শিকারিদের পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাঘিনীটিকে আজ (রোববার) পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের শরকিরখাল এলাকায় শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে একটি বয়স্ক বাঘিনী আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে নিজ আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাঘিনীটির নিরাপদ অবমুক্তকরণ ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য অবমুক্তকরণ এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী এক বছর এসব দল বাঘিনীর চলাচল ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
তবে বাঘিনীটিকে পুনরায় সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু মতভেদও রয়েছে। গত ২১ মে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে ভিন্নমত উঠে আসে। পরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবমুক্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার সকালে খুলনা থেকে নৌপথে বাঘিনীটিকে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে নেওয়া হবে। সেখান থেকে সুন্দরবনের গভীর বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হবে।
এদিকে, উদ্ধার থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত পুরো ঘটনাকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। খুলনার বয়রা এলাকায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে গত কয়েকদিন ধরে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাঘিনীটির সুস্থ হয়ে আবারও সুন্দরবনে ফিরে যাওয়াকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
