চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জামায়াতের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে উপজেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে জামায়াতের উদ্যোগে ‘তালিম উল কোরআন’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির অভিযোগ, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই সেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার জের ধরে রবিবার বিকেল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন তার কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। তবে বৈঠক চলাকালেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এদিকে, ‘জুলাই সনদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিএনপির দাবি, ওই পোস্টটি শেয়ার করেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শিবির সভাপতি সুমন। পরে ক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় সুমন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সুমনসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি সমঝোতা বৈঠকেও উত্থাপন করা হয়। তবে বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রবিবার বাদ আসর জামায়াতের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে লাঠিসোঁটা বহনের অভিযোগও ওঠে। একই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপজেলা শহরে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, “মডেল মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনার স্থান হতে পারে না। সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদ করায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, নিয়ম মেনেই ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল এবং এতে বাধা দেওয়া অযৌক্তিক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ-জামান, ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন আহম্মেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, “মডেল মসজিদে যে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে যে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
