রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার এক দরিদ্র ভ্যানচালক যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম অটোভ্যানটি হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ফরিদপুরের মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী লুৎফর খান (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লুৎফর খান রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের শহাদত খানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে অটোভ্যান চালিয়ে তিনি পরিবার-পরিজনের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কালুখালী উপজেলার শিকজান এলাকা থেকে এক ব্যক্তি তার অটোভ্যানে যাত্রী হিসেবে ওঠেন। প্রথমে তিনি বালিয়াকান্দি হাসপাতালে যাওয়ার কথা বললেও পরে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলতে চালককে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।
একপর্যায়ে জামালপুর বাজার হয়ে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চর চন্দনা আমপাড়া এলাকায় পৌঁছে ওই ব্যক্তি জানান, এটি তার বাড়ির কাছাকাছি। বাড়ি থেকে একজনকে ডেকে আনার কথা বলে তিনি লুৎফর খানকে অটোভ্যানটি রেখে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা এক ব্যক্তি জানান, এটি ওই যাত্রীর বাড়ি নয়। এতে সন্দেহ হলে লুৎফর খান দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে এসে দেখেন, তার অটোভ্যানটি আর সেখানে নেই। পরে তিনি বুঝতে পারেন, যাত্রীবেশী প্রতারক কৌশলে তার অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।
লুৎফর খান জানান, চুরি হওয়া অটোভ্যানটি সবুজ রঙের তিন চাকার, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত অটোভ্যানটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফর খান বলেন, "অটোভ্যানটিই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এটি হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব জানি না। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, দ্রুত আমার অটোভ্যানটি উদ্ধার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।"
এ ঘটনায় মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে প্রতারককে শনাক্ত এবং তার অটোভ্যানটি উদ্ধার করতে সক্ষম হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
