ভৈরবে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কোনো কাজেই আসছে না। উপজেলার কোদালকাটি নদীর উপর নির্মিত সেতুটির কাজ শেষ হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় জনগণের কোন উপকারে আসছেনা সেতুটি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরের কারনে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারছেননা। কিন্ত স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ বলছে অনেক চেষ্টা করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন আরো ২ বছর আগেই জমির সমস্যা সমাধান করেছেন। জমি নিয়ে কোন সমস্যা নেই । দ্রূত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনগণ ও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর এবং গাজারিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য অনুর্ধ ১০০ মিটার প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে হাসান এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু পরে স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মমিনুল এন্টারপ্রাইজ সাব- কন্টাকের মাধ্যমে ২০২০ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে সেতুটির নিমার্ণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ঠিকাদার দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে। যা কাজের ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয় । কিন্তু মাত্র দুই শতাংশ অর্থ্যাৎ দুই পাশে সংযোগ সড়ক না করায় কোন কাজে আসছে না সেতুটি। এরই মধ্যে প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।
সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় গজারিয়া ইউনিয়নের বাশঁগাড়ী, বাঘাইকান্দি, শ্রী- নগর ইউনিয়নের তেয়ারীরচর সহ আশ- পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র এবং স্কুল - কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত মানুষ যানবাহন নিয়ে পারাপার হতে পারছেনা । যানবাহন নিয়ে পারাপার তো দূরের কথা হেটে পার হওয়ায় দায়। এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী আনার মিয়া,আলকাছ মিয়া কৃষক মফিজুল ইসলাম সহ অনেকেই জানান। তাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিলো একটি সেতুর । কিন্তু সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটির কোন সুফল তারা ভোগ করতে পারছেননা। ফলে দূর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছেনা। তাই সরকারের কাছে দ্রূত সংযোগ সড়ক নির্মানের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কাজটি বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মমিন এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মামুন মিয়া জানান, সেতুটির দুই পাশেই মালিকানা ভুমি রয়েছে। ফলে তারা আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলার কারণেই জটিলা সৃষ্ট হয়েছে। তাই তারা সংযোগ সড়কের কাজটি করতে পারছেননা।
এ বিষয়ে যদিও উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানান,স্থানীয় প্রশাসন অনেক চেষ্টা করে বিষয়টি সমাধান করেছেন। তাই, অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মান কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছেন দ্রূত সংযোগ সড়কের কাজটি শেষ হবে। জনগণ সেতুটির সুফল ভোগ করতে পারবেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
