মহসিন রেজা, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের কাকিলামারি গ্রামে প্রকাশ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ১১ কেভি উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের নিচে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় ব্যক্তি আনিস। বিদ্যুৎ নিরাপত্তা বিধিমালাকে উপেক্ষা করে চলমান এ নির্মাণকাজ এলাকাবাসীর কাছে এখন এক ভয়াবহ ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনকে অস্থায়ীভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে পাশাপাশি কিছু স্থানে বিদ্যুতের তার প্লাস্টিকের পাইপের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে যা কোনভাবেই নিরাপদ পদ্ধতি নয় এবং মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে—যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা ও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভবনের ভেতর দিয়েই এলটি (লো-টেনশন) ও নিউট্রাল সংযোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এলটি (লো-টেনশন) লাইন ও নিউট্রাল তারকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংযোগ যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট, স্পার্কিং কিংবা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ভবন নির্মাণকারী আনিসের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহির আব্বাস বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এমনকি অভিযোগকারী ব্যক্তির সাথে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ না হয়ে বরং অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘন করে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ না থাকায় এ ধরনের অনিয়ম দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর সরল প্রশ্ন—এভাবে প্রকাশ্যে ঝুঁকি তৈরি করে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে?
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণকাজ বন্ধ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
