আগামীকাল ১০ আগস্ট জেলার কাপ্তাই উপজেলার ১নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামসহ দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আগামীকাল সকাল ১১টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই মিতিঙ্গাছড়িসহ সারাদেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি ছাড়াও খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম রয়েছে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে। এটিও ১নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত। অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাজসজ্জা ও ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর কবির, আব্দুল মতিন, সুইহ্লা প্রু মারমা, অংচেপ্রু মারমা ও কাকলি দাশ বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশের তিনটি গ্রামের মধ্যে আমাদের গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে উদ্বোধনের জন্য নির্বাচিত করায় আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমরা আশা করছি।’
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ‘এটি সমগ্র কাপ্তাইবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। আগামীকাল ১০ আগস্ট কাপ্তাইয়ের জাতীয় জীবনে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসডিজি প্রকল্পের আওতায় মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা আনন্দিত।’
কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের তিনটি গ্রামের মধ্যে কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচিত করা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এবং রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি ও কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ হতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এদিকে আগামীকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের সাজসজ্জা, ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
