জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকার পরও খাস জমি নিয়ে জটিলতায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পার আধাইপুর গ্রামের ৪৩ নম্বর ইসমাইলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ আটকে আছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ প্রয়োজন। রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে ৩ জন জমির মালিক রাস্তার জন্য জায়গা দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে মাঝখানে থাকা প্রায় ৪০ শতক জমি নিয়ে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই প্রায় ৪০ শতক জমি খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি। অনেক আগে ‘প্রার্থ’ নামে এক ব্যক্তি সরকারি ব্যবস্থাপনায় জমিটি লিজ নিয়েছিলেন বলে তারা জানান। পরবর্তীতে প্রার্থকে ওই জমিতে যেতে দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে আফসার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জমিটি ভোগদখল করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ওই জমি নিয়ে আপত্তি তুলে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য জমির মালিকরা জায়গা দিতে রাজি থাকলেও মাঝের ওই জমির কারণে প্রায় ৩৫০ ফুট রাস্তার নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
রাস্তা নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছেন। স্থানীয়দের আবেদনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নওগাঁর রাজস্ব শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে পার আধাইপুর মৌজার খাস জমিতে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তার জায়গা নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসী ও ৪৩ নম্বর ইসমাইলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ রাস্তা নির্মাণ ও পাকাকরনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বদলগাছী উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখেছেন। কিন্তু জমি সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এখনো রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটিতে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে দেরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি খাস জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে প্রায় ৩৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণ ও পাকাকরণের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
