ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

কুড়িগ্রামে ঘুষ নিয়ে অবরুদ্ধ ডিবি সদস্য

সারাদেশ | রাশিদুল ইসলাম রাশেদ। কুড়িগ্রাম।

(১ মাস আগে) ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ২:৩১ অপরাহ্ন

banglahour


কুড়িগ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে এক বাবা-ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগ উঠেছে ডিবির সদস্য মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে। পরে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি অবরুদ্ধ হন। খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে ভেলাকোপা গ্রামের থাই মিস্ত্রি শাহীন আলম (৪৫) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম (১৭) মটর পাম্প দিয়ে পানি সেচে ছোট মাছ ধরতে যান। মটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় ডিবির সদস্য মেহেদি হাসান ও স্থানীয় দুই যুবক তাজুল ও বাবু সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তুলে তাদের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।


ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শাহীন আলম ও তার ছেলে পুলিশের পা ধরে ক্ষমা চাইলেও তাতে সাড়া দেননি ওই ডিবি সদস্য। পরে স্থানীয় দুই যুবকের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা হয়। পরদিন গাছ বিক্রি করে সেই ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।


এরপর টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শাহীন আলমের স্ত্রী বিউটি বেগম স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কাছে গিয়ে টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা চান। পরে ওই ব্যবসায়ী ডিবির সোর্স পরিচয় দেওয়া তাজুল ও বাবুর কাছে টাকা ফেরত চান। এ সময় বিউটি বেগমের কান্নাকাটি ও অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মেহেদি হাসান ডিবির টিমকে খবর দেন।


রাত ১১টার দিকে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল শুরু হয়। পরে অতিরিক্ত ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ডিবি সদস্য মেহেদি হাসানকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিবির সদস্য মেহেদি হাসান বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এসব অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলে জানান তারা।


এ বিষয়ে কথা হলে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন অবরুদ্ধ  মেহেদি হাসান নামের ওই ব্যক্তি ডিবির সদস্য  বলে স্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ক্যাপশনঃ ছবির লাল রঙে গোলবৃত্তে চিহ্নিত ব্যক্তি ডিবি সদস্য মেহেদি হাসান।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম