রশিদ মিনিকেট চালের মনোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ভেজাল চাল ঢুকিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানী কল্যাণপুরের নতুন বাজারে অবস্থিত বিক্রমপুর রাইস এজেন্সি ও ৬০ ফিট পাকা মসজিদে অবস্থিত বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির বিরুদ্ধে।
বাজারের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য রশিদ মিনিকেট চালের মনোগ্রাম ব্যবহার করে, দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল চাল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। যার মাধ্যমে ভোক্তার কাছ থেকে বস্তা প্রতি চার থেকে পাঁচশ বা তারও অধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার হয়।
আর এই প্রতারণা করে বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির মালিক রুবেল মাদবর ও বিক্রমপুর রাইস এজেন্সির মালিক রফিকুল ইসলাম রুয়েল প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই চালের প্রতারণার সিন্ডিকেটের সাথে স্বয়ং জড়িত রশিদ মিনিকেট চালের এসআর শহিদুল ও ম্যানেজার। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আয়ের একটা অংশ পায় তারা, যার কারণে বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে শহিদুল ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রশিদ মিনিকেট চালের বস্তার মনোগ্রাম ব্যবহার করে BRP চালসহ অন্যান্য সস্তা চাল বস্তায় ভরা হচ্ছে। আর এই চালের বস্তা ডুপ্লিকেট এর সময় স্বয়ং উপস্থিত রয়েছেন মালিক রফিকুল ইসলাম রুয়েল।অভিযোগ রয়েছে মালিকদের নির্দেশেই এই দুই নম্বর চালের কার্যক্রম করতেন দোকানের কর্মচারীরা।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় দোকানটির পূর্বের ম্যানেজার মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ আবির কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু বের করে দেওয়া না, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা জবানবন্দীও নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় মোহাম্মদ হাসান মিরপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন।
এ ধরনের সিন্ডিকেটকে মিথ্যা বলে দাবি করেন বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির মালিক দুই ভাই, তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হলে, দায় আগের ম্যানেজারদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
সিন্ডিকেটটি গোপন লেনদেনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-ইমামগঞ্জের বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে সাদৃশ্য বস্তা উৎপাদন করে প্রতারণা করে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে রশিদ মিনিকেট চাল কর্তৃপক্ষকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোন সারা পাওয়া যায়নি।
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুই ভাই, ঢাকাতে রয়েছে ফ্ল্যাট, দুইটা প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল। এছাড়াও নামে-বেনাম ব্যাপক সম্পত্তি অর্জন করেছেন তারা। এবং দুদকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ব্যাংক লোনেরও আশ্রয় নিয়েছেন।
তাদের এই সিন্ডিকেটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হতবাক ক্রেতারাও। তারা বলেন, অবিলম্বে ভোক্তা অধিদপ্তরের নজরে আনা উচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
