বর্ণিল আয়োজন, পূজা-অর্চনা আর নেচে গেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপিত হলো ওরাঁও নৃ-গোষ্ঠীর কারাম উৎসব ’। ভাদ্র মাসের শেষে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় এ উৎসবের আয়োজন করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে কারাম পূজা উদযাপন কমিটি ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাওয়ের আয়োজনে সদর উপজেলার সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা, জগনাথপুর, গোবিন্দনগর, চন্ডিপুরসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে দুই দিনব্যাপী শুরু হয় এই উৎসব। মঙ্গলের প্রতীক কদমকেলী বা কারাম গাছের ডালকে ঘিরে চলে তাদের এই ধর্মীয় আরাধনা।
সদর উপজেলার পাঁচপীর ডাঙ্গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা আইনজীবী ইমরান হোসেন চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ইসলাম তানু, হেকস্ বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার পাপন কুমার সরকার প্রমুখ।
কারাম পূজার মধ্য দিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায় পরিবারের সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি সমাজের কল্যাণ চেয়ে প্রার্থনা করেন পূজারিরা। উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিন শনিবার, পূজায় ব্যবহৃত পবিত্র গাছের ডালটি নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দুই দিনের এই ধর্মীয় আয়োজনের।
কারাম উৎসবকে ঘিরে কয়েক দিন আগে থেকেই সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাকে নারী পুরুষ, হাতে ঢোল ও মাদল নিয়ে নাচ গান করতে করতে উৎসবে অংশ নেন তারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ ছুটে আসেন এ আয়োজন দেখতে।
কারাম পূজার অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো কারাম গাছের ডাল স্থাপন। এ উপলক্ষে ওড়াঁও নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে নাচ গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়।
কারাম গাছের ডাল স্থাপনের পর শুরু হয় উৎসবের মূল আয়োজন। নারী পুরুষের সঙ্গে নাচ গানে যোগ দেন শিশু কিশোররাও। ঢোল ও মাদলের তালে তালে একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন পুরো গ্রামের মানুষ। এতে একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা হয়, অন্যদিকে তৈরি হয় পারস্পরিক স¤প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ।
শুধু ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাতেই নয়, জেলার ১৩টি গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে আশ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসবের আমেজ।
উৎসবে অংশ নেওয়া অতিথিরাও ওড়াঁও স¤প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।
আয়োজকরা জানান, কারাম উৎসব মূলত তিন দিনের আয়োজন। ভাদ্র মাসের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার রাতে মূল আনুষ্ঠানিকতার পর শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কারাম গাছের ডাল নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, ওড়াঁও স¤প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো দরকার।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
