ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
banglahour গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল

English

পুলিশ ছাড়াই অন্য থানা এলাকায় ‘অভিযান’, বৈধতা নিয়ে প্রশ্নে সাংবাদিককে গালিগালাজ; বিতর্কে আকন্দবাড়ীয়া মাদক নির্মূল কমিটি

সারাদেশ | রিফাত রহমান। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।

(৪৫ মিনিট আগে) ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন

banglahour

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার আকন্দবাড়ীয়া গ্রামের মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক উদ্ধারের পর তা আত্মসাৎ, আটকের ঘটনা গোপন রেখে অর্থ আদায় এবং জব্দ করা মাদকের প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে কম দেখিয়ে মামলা করার অভিযোগের পর এবার কমিটির সদস্যরা পুলিশ ছাড়াই অন্য থানা এলাকায় গিয়ে অভিযান চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দর্শনা থানার আওতাধীন আকন্দবাড়ীয়া গ্রামের মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি আব্দুল মুন্নাফসহ ৭-৮ জন সদস্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামে গিয়ে রাজা নামের এক ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করেন। বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন আব্দুল মুন্নাফ।

তিনি জানান, অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তবে কোনো সরকারি বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে না জানিয়ে অন্য থানা এলাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনার আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এক সাংবাদিককে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি ফোনে এবং থানায় গিয়ে ওই সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চান।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “তাদের এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আর তারা এটা করতে পারেন না।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২১, ২২ ও ২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের নির্ধারিত কর্মকর্তারা আইনানুগভাবে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। ফলে স্থানীয়ভাবে গঠিত কোনো মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা নিজেরা অন্য এলাকায় গিয়ে তল্লাশি, আটক বা জব্দ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন কি না—সে বিষয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আকন্দবাড়ীয়া এলাকায় মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় মাদককারবারী হিসেবে পরিচিত বিকাশ দাবি করেন, তার মোটরসাইকেলে ১৩২ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ স্কাফ সিরাপ ছিল। এ সময় মাদক নির্মূল কমিটির কয়েকজন সদস্য তার মোটরসাইকেল ও সিরাপ জব্দ করেন এবং মোটরসাইকেল ফেরত দিতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

বিকাশের দুলাভাই রাজা অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্য জসিম তাকে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠান। তার দাবি, এ লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও মোটরসাইকেলে থাকা ১৩২ বোতল স্কাফ সিরাপের মধ্যে মাত্র ৩৫ বোতল উদ্ধারের কথা দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কমিটির সদস্য জসিম তার বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা আসার বিষয়ে দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ঘটনার দুই দিন পর কেন জিডি করা হলো এবং টাকা আসার পরপরই কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রাজা আরও অভিযোগ করেন, জসিম, জুয়েল, রিপন ও রকিসসহ কয়েকজন কমিটির নাম ব্যবহার করে মাদক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মাদক-সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে উদ্ধার করা মাদক যথাযথভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করা এবং আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযুক্ত জসিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আকন্দবাড়ীয়া মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি আব্দুল মুন্নাফ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, “গত ১৯ সেপ্টেম্বর আকন্দবাড়ীয়া এলাকা থেকে ৩৫ বোতল স্কাফ সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ

banglahour
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭৭৮০০৪৭০০
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
বিশেষ প্রতিনিধিঃ তাহিরুল ইসলাম